
দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। উপাসনালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি, সহকারী ধর্মীয় ব্যক্তি এবং সেবা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য তিন ক্যাটাগরিতে নিয়মিত মাসিক সম্মানী চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি যুগোপযোগী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে বেশ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের তিনটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সম্মানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক বা পালকদের। প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে তাদের প্রত্যেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সহকারী ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক বা পালক; যাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে মাসিক ৩ হাজার টাকা। এছাড়া তৃতীয় ক্যাটাগরিতে থাকা মসজিদের খাদেম বা উপাসনালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতি মাসে পাবেন ২ হাজার টাকা করে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরাসরি সুবিধাভোগীদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করা হয়েছে। এই সম্মানীর অর্থ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগের প্রচলিত আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে এই আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি নির্বাচিত উপাসনালয়কে একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এই পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। দীর্ঘদিন ধরে উপাসনালয়গুলোর সঙ্গে জড়িত তৃণমূল পর্যায়ের এই মানুষগুলোর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের এই উদ্যোগটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।