
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের সঠিক অবস্থান ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রতিটি বিদেশি কর্মীর যাচাইকৃত আবাসন ঠিকানা স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ফোমেমা (Fomema) সিস্টেমে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে শ্রমিকদের ঠিকানা নিশ্চিত বা হালনাগাদ করা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।
ফোমেমার ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিদেশি কর্মীর বর্তমান আবাসন ঠিকানা সঠিক রয়েছে কি না, তা নিয়োগকর্তা এবং প্যানেল সংস্থাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। যদি কোনো কর্মী আগের ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য কোথাও চলে যান, তবে নিবন্ধনের আগেই সেই নতুন ঠিকানা সিস্টেমে আপডেট করতে হবে এবং তবেই তা ‘সেভ’ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে কোনো ঠিকানা দেখিয়ে দায় সারার আর কোনো সুযোগ থাকছে না; বরং শ্রমিক বাস্তবে কোথায় বসবাস করছেন, তার শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তার ওপর বর্তাবে। ভুল বা পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। মূলত বিদেশি কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে তাদের দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতেই এই কঠোর ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের পর প্রত্যেক বিদেশি কর্মীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফোমেমাতে নিবন্ধন করে অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। এতদিন এই প্রক্রিয়ায় ঠিকানার বিষয়ে কড়াকড়ি না থাকায় অনেক শ্রমিক নির্ধারিত আবাসনের বাইরে থাকা বা কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয়টি গোপনের সুযোগ পেতেন। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মরত থাকায় নতুন এই নিয়ম তাদের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফমেমার এই পদক্ষেপে শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, বরং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রতিটি বিদেশি শ্রমিকের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি নিশ্চিত হবে।