
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দেশটির আগা খান হাসপাতাল এবং কোয়েটার আর্য ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের যৌথ এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সামা টিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণায় মোট ১৬ হাজার ৩৪২টি বায়োপসি বা টিস্যু নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৫ হাজার ১৪৫টিতে ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৫২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮ শতাংশ নারী। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ৭ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশে ব্রেন টিউমারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে খাদ্যনালীর ক্যানসার সবচেয়ে বেশি (১৭.৪ শতাংশ) দেখা গেছে, যা দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান বা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রম। পুরুষদের মধ্যে এই ধরনটি মুখের ক্যানসারের তুলনায় চার গুণ বেশি সাধারণ। এছাড়া পুরুষদের পাকস্থলী, কোলন, মলদ্বার ও মূত্রথলির ক্যানসারও উল্লেখযোগ্য হারে রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, নারী রোগীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার সবচেয়ে বেশি (৫২৬টি) এবং খাদ্যনালীর ক্যানসার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণায় ক্যানসার বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রক্রিয়াজাত, লবণাক্ত ও শুকনা খাবার খাওয়া, খাদ্যতালিকায় তাজা ফল ও শাকসবজির স্বল্পতা, বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ এবং আফিম ব্যবহারের বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন যে এগুলো এখনো ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। একইসঙ্গে পাকিস্তানে একটি সমন্বিত জাতীয় ক্যানসার রেজিস্ট্রি বা তথ্যভান্ডারের অনুপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে বেলুচিস্তানে সঠিক হিসাব রাখতে উন্নত নথিপত্র তৈরি এবং কিসের ভিত্তিতে রোগ ছড়াচ্ছে তা জানতে ব্যাপকভিত্তিক ডাটা সংগ্রহের ওপর জোরালো গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।