
আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গার একটি অভিজাত হোটেলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফিডিং কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি শুরুর দিকে কিছু সাপ্লাই ও মানসংক্রান্ত সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের পাইকগাছার মতো অনেক এলাকা সেসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছে। নীতিমালায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিম্নমানের বা পঁচা কোনো খাদ্যপণ্য বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের টেন্ডার অর্ডার বাতিল করা হবে। এছাড়া নিম্নমানের ফল বা খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে তা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে শিক্ষার মান কিছুটা হ্রাস পেলেও বর্তমানে প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম, শিক্ষক নিয়োগ ও লার্নিং স্টাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীত ইতিহাস নয়, বরং তাদের মূল পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া শিক্ষক বদলিতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা এলোমেলো বদলি বন্ধ করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় তা সম্পন্ন করার কথা জানান তিনি। শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করছে এবং এই নীতিমালার মাধ্যমে দেশের কোনো শিক্ষক নিরাশ হবেন না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেনসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পুষ্টিমান বজায় রাখতে ফিডিং কর্মসূচির গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।