
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দর এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের অপেক্ষার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে স্পট স্বর্ণের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২২ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্থানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্সের দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত এই মূল্যবান ধাতু তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়, যা বাজারে চাহিদা বাড়ায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ননফার্ম পেরোলস বা কর্মসংস্থান প্রতিবেদনটি যদি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হয় এবং সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়, তবে স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ ডলারের দিকে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও মূল্যবান ধাতুটির দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে তেজাবি স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। বর্তমানে বিশ্ববাজারের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।