
কম দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার আশায় আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে রি-টেন্ডার ডেকে উল্টো ১২৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত লোকসান গুনতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আকস্মিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সরকারকে এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় চারটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর এলএনজি সরবরাহের জন্য গত সোমবার স্পট মার্কেটে দরপত্র ডাকা হয়েছিল। সে সময় বিপি সিঙ্গাপুর ও ভিটল এশিয়া তুলনামূলক কম দর দিলেও, আরও কমে পাওয়ার আশায় সেই দরপত্র বাতিল করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার পুনরায় দরপত্র ডাকার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চড়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় চড়া দামে আরামকো ও ভিটলের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সরকারের, যার ফলে শুধু ওই দুটি কার্গোতেই অতিরিক্ত ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে। এদিকে গ্যাস সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ২৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।