
টেস্ট ক্রিকেটে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ম্যাচে কেশারা নুওয়ান্থার উইকেট শিকার করার মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৫০ উইকেটের কোটা পূরণ করেন জাদেজা। আর এর মধ্য দিয়ে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে কিংবদন্তি কপিল দেবের পর মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪ হাজার রান এবং ৩৫০-এর বেশি উইকেট নেওয়ার বিরল ডাবলস পূর্ণ করলেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটেও এই নজির অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক অলরাউন্ডারের নামের পাশে রয়েছে, যেখানে জাদেজা জায়গা করে নিলেন ইয়ান বোথাম ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরির মতো লিজেন্ডদের সঙ্গে।
মাত্র আট বছর বয়স থেকে কঠিন সংগ্রাম ও গুজরাটের জামনগরে শৈশবের কোচ মহেন্দ্রসিংহ চৌহানের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা জাদেজা আজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং এই তিন বিভাগেই সমান পারদর্শী জাদেজা দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়কদের কাছে এক পরম ভরসার নাম। ক্যারিয়ারজুড়ে কখনই ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডারে খেলার সুযোগ না পেলেও, টেস্টে ৬টি সেঞ্চুরি ও ২৮টি অর্ধশতক তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার উজ্জ্বল প্রমাণ। অন্যদিকে, নিখুঁত লাইন-লেন্থে বোলিং করার পাশাপাশি বিশ্বমানের ফিল্ডিং ও দুর্দান্ত রানআউট করার ক্ষমতা তাঁকে পরিণত করেছে এক 'কমপ্লিট ক্রিকেটার'-এ।
গলের মাটিতে টেস্টের তৃতীয় দিনে তীব্র লড়াই ও বৃষ্টির শঙ্কার মাঝে এই মহাকীর্তি অর্জন করলেও ক্রিকেটের গ্ল্যামার ও শিরোনামের আড়ালে অনেক সময় তাঁর অর্জনগুলো কিছুটা ঢাকা পড়ে যায়। সেঞ্চুরি বা পাঁচ উইকেট শিকারের মতো চটকদার খবরের ভিড়ে জাদেজার অবদান বরাবরই ছিল দলের জয় নিশ্চিত করা কঠিন মুহূর্তে জুটি ভাঙা, দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করা কিংবা অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া। ৩৭ বছর বয়সেও নিজের অবিশ্বাস্য ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রেখে জাদেজা প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল একটি সংখ্যা নন, বরং লড়াকু মানসিকতা ও বহুমুখী প্রতিভার এক জীবন্ত প্রতীক।