
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কয়েক দিন ধরেই জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা ও পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত ইরান ও কাতারের মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে এই দরপতন দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৭ দশমিক ২৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মানদণ্ড ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট)-এর দামও ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮১ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও কাতারের মধ্যকার এই আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। ধারণা করা হচ্ছে, এই আলোচনার ফলস্বরূপ কৌশলগত হরমুজ প্রণালীটি খুব দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ আধা-স্থবির হয়ে পড়ার যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে যাবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয় বিধায়, এটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে সচল হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।