
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে এসেছে ৯০ ডলারের নিচে। তেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়ায় বিশ্ব পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কিছুটা কমেছে।
চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুটি শ্রেণির দামই গড়ে আট শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মূলত ইরান ও ওমানের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কার্যকর সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার খবরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা বাজারে ব্যাপক আশাবাদের সৃষ্টি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের কঠোর পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বাজারের সাধারণ ধারণা বলছে যে, এই পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত আশঙ্কার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম কঠোর হতে পারে। এছাড়া পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সোমবার ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর কূটনৈতিক অগ্রগতির ইতিবাচক খবরও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
তেলের দাম হ্রাসের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেওয়ার ব্যয় কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর প্রভাবে বুধবার টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিউল, ওয়েলিংটন ও তাইপের মতো এশিয়ার বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এর বিপরীতে সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারগুলোতে সামান্য দরপতনের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রिक এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।