
২০০০ সালের শুরুর দিকে বলিউডের মডেলিং ও মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া সুপরিচিত মুখ মালিনী শর্মা দীর্ঘ ২৩ বছর পর অবশেষে ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন। বম্বে ভাইকিংসের জনপ্রিয় গান ‘কিয়া সুরত হ্যায়’ কিংবা মিকা সিংয়ের ‘সাওয়ান মে লাগ গায়ি আগ’ গানের পাশাপাশি টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ক্যাটস’-এ অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন তিনি। তবে ২০০২ সালে বিক্রম ভাট পরিচালিত ব্যবসাসফল হরর সিনেমা ‘রাজ’-এ বিপাশা বসু ও দিনো মোরিয়ার সঙ্গে অভিনয় এবং ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘আপকে পেয়ার মে’-তে তার উপস্থিতি তাকে ক্যারিয়ারের শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন বলিউডে তার দীর্ঘ ও উজ্জ্বল পথচলা অপেক্ষা করছে, কিন্তু খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানোর পরই হঠাৎ করেই লাইমলাইট থেকে দূরে সরে যান মালিনী।
অভিনেতা প্রিয়াংশু চ্যাটার্জির সঙ্গে অল্প সময়ের বিবাহিত জীবন এবং বিচ্ছেদের পর ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। অভিনয়ের চেয়ে ক্যামেরার পেছনের কাজ এবং ভিন্নধর্মী জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় তিনি বলিউডকে বিদায় জানান। তবে হারিয়ে না গিয়ে জীবনের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে তিনি মহারাষ্ট্রের সাহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে, পুনে থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে গড়ে তুলেছেন ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামের এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। নিজ খামারে অর্গানিক উপায়ে ফল ও সবজি চাষ করার পাশাপাশি খামারে উৎপাদিত নানা পণ্যের মাধ্যমে তিনি এখন সম্পূর্ণ একটি শান্ত ও প্রকৃতিঘেঁষা জীবনযাপন করছেন, যা তার কাছে জীবিকার চেয়েও বড় একটি জীবনদর্শন।
সম্প্রতি ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’ নামে একটি নতুন ভিডিও সিরিজ শুরু করেছেন মালিনী, যার প্রথম ভিডিওতেই তাকে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ক্যামেরার সামনে দেখা যায়। এতদিন যারা জানতে চেয়েছেন তিনি কোথায় হারিয়ে গেছেন, তাদের উদ্দেশে ভিডিওতে মালিনী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে, তিনি হারিয়ে যাননি, বরং সশরীরেই আছেন এবং ভালো আছেন—‘আমি বেঁচে আছি, আমি এখানেই আছি।’ বলিউড ছেড়ে দেওয়ার কোনো আফসোস আছে কি না—এক ভক্তের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, তিনি আসলে বলিউড ছেড়ে আসেননি, কেবল নিজের জীবনের চলার পথ ও দিক পরিবর্তন করেছেন। প্রয়োজনে তিনি যেমন আবারও ফিরতে পারেন, তেমনি চাইলে নিজের বর্তমান এই শান্তির জীবনটেও চিরকাল কাটিয়ে দিতে পারেন। বলিউডের গ্ল্যামার হারিয়ে যাওয়ার পর সাহ্যাদ্রির পাহাড় তাকে যে মানসিক শান্তি দিয়েছে, তাতে ২৩ বছর পর ক্যামেরার সামনে ফিরে মালিনী প্রমাণ করলেন যে তিনি নিজের মতো করেই বাঁচার আসল পথটি বেছে নিয়েছেন।