
দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। তবে এর মাঝেই আগামী তিন দিন দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তার কাছাকাছি উজানি অঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার (২৬ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস’ শীর্ষক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
নদ-নদীর বর্তমান অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি কমেছে এবং আগামী তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে পরবর্তী দুই দিনে পানি কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেলেও আগামী দুই দিন তা বেড়ে পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে, এবং সব নদীর পানিই বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী যেমন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারার পানিও কমার ধারায় রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর মধ্যে মুহুরী, সিলোনিয়া ও সাঙ্গুর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, ফেনী ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে এবং হালদা নদীর পানি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে এবং আগামী তিন দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। যদিও বর্তমানে দেশের কোথাও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই, তবুও উজানে ও নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নদ-নদীগুলোর পানির গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।