
রংপুরে সাবেক এক শিক্ষক ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন যে, এই ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতো। বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। রংপুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে স্তব্ধ ও কাঁদিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাজ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে রিজভী জানান যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও ইতিবাচক উত্তরণ ঘটাতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে অপরাধীরা কঠোর আইনের মুখোমুখি হবে বলে তিনি জোরালো আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও জোরালো অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, দেশের কোথাও কোনো ধরনের মাদক কারবারের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়, সেটিই আজ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রধান প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন যে, জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান নীতি ও আদর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করলেই কেবল মানবজীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব। মহানবীর আদর্শ ধারণ করার মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় বর্তমান সরকার সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে দাবি করে তিনি বলেন যে, বর্তমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এখন গণমাধ্যম, সাধারণ জনগণ এবং তৃণমূলের মানুষের কাছে সরাসরি নিজেদের কাজের জবাবদিহি করছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় অগ্রগতি।