
আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে একেবারে নতুন প্রজন্মের একটি লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (LRAAM) বা দূরপাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও ফ্লাইট টেস্ট চালাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। বর্তমানে ব্যবহৃত এআইএম-১২০ এবং সম্প্রতি আলোচিত এআইএম-১৭৪বি মিসাইলগুলোর সক্ষমতাকে পেছনে ফেলে দিতে তৈরি করা হচ্ছে এই নতুন অস্ত্রটি। সম্প্রতি নেভাদার রেনোতে অনুষ্ঠিত টেইলহুক সিম্পোজিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আধুনিক এআইএম-৪২৪ 'ম্যালিস' (Malice) মিসাইলের কথা প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে এফ/এ-১৮, এফ-৩৫ এবং সর্বাধুনিক এফ/এ-এক্সএক্স ফাইটার জেটে ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন এই প্রজন্মের লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলটি মূলত নৌবহরের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং উদীয়মান আকাশপথের হুমকিগুলোর বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। এটি নেভাল ও মেরিন এভিয়েশনের কম্ব্যাট ইফেক্টিভনেস, আক্রমণাত্মক পরিসর এবং প্রাণঘাতী শক্তি বৃদ্ধি করবে। গোপনীয়তা রক্ষা এবং অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে মিসাইলটির সুনির্দিষ্ট রেঞ্জ বা কৌশলগত ক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য এখনো ক্লাসিফাইড রাখা হয়েছে। তবে আরটিএক্স (RTX)-এর প্রেসিডেন্ট ফিল জ্যাসপার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে এই অস্ত্রটি নেভাল ফোর্সের জন্য আকাশযুদ্ধে এমন একটি প্রজন্মান্তর বা জেনারেশনাল লিপ নিয়ে আসবে, যা যেকোনো দূরপাল্লার হুমকিকে সহজেই পরাস্ত করতে সক্ষম।
দুই ধাপের এই শক্তিশালী মিসাইলটির আকার এবং ধারণা দেখে অনুমান করা হচ্ছে যে এটি আকারে বেশ বড় এবং এর শেপ অনেকটাই এআইএম-১৭৪বি এর মতো, যা স্টিলথ যুদ্ধবিমানের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বে (weapons bay) থেকেও পরিচালনা করা সম্ভব। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এর ধারণাগত উন্নয়ন কাজ চলছে এবং ২০১৭ সালে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির কনফারেন্সে এর প্রাথমিক রূপ সামনে আনা হয়েছিল। মূলত চীনসহ বিভিন্ন প্রতিপক্ষ দেশের দূরপাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের মুখে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই মিসাইলটি বর্তমান যুগের আকাশযুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।