
১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় কেবল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সোনালী অধ্যায়ই ছিল না, বরং এটি দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসের এমন এক মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত ছিল যা পুরো দেশের ক্রিকেট মানচিত্রকে রাতারাতি বদলে দিয়েছিল। অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে সনাথ জয়াসূর্য ও অরবিন্দ ডি সিলভার মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের হাত ধরে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক বিশ্বজয় বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং দেশের কোটি কোটি তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত মধু জওয়ালির একটি মননশীল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এই অভাবনীয় সাফল্য দেশটির ক্রিকেটের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সবচেয়ে বড় কাঠামোগত ত্রুটি এবং প্রশাসনিক অবহেলাকে সবার সামনে উন্মোচন করে দিয়েছিল।
বিশ্ব জয়ের পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বশীলরা সেইmomentum বা সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একটি টেকসই ঘরোয়া পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং স্টেডিয়াম বা সুযোগ-সুবিধার আধুনিকায়নে মনোযোগ দেওয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। কর্তাব্যক্তিদের প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং খামখেয়ালি ব্যবস্থাপনার কারণে পরবর্তীতে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইনে বড় ধরনের ভাটা পড়ে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর।
তবে দীর্ঘ কয়েক দশকের এই প্রশাসনিক অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্টের কাঠামো ঢেলে সাজানো, আধুনিক কোচিং পদ্ধতি প্রবর্তন এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশটি এখন ভবিষ্যতের বিশ্বমানের তারকাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই কাঠামোগত সংস্কারগুলো শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে তার হারানো গৌরব ও শক্তিমত্তা ফিরিয়ে দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।