
কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে খেলা গড়িয়েছে চরম রোমাঞ্চকর এক পর্যায়ে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের লড়াইকে সামনে রেখে লঙ্কানদের ওপর পাহাড়সম চাপ সৃষ্টি করেছে ভারতীয় দল। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনের পর ৫০৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারী ভারত। এরপর বল হাতেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে তোলে তারা। শ্রীলঙ্কা তাদের প্রথম ইনিংসে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেললে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ভারতের হাতে। প্রসিধ কৃষ্ণ ও মানব সুথার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি পেসার মোহাম্মদ সিরাজের আগ্রাসী মেজাজও এ দিনের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় ছিল।
ম্যাচের প্রথম সেশনে শ্রীলঙ্কার ওপেনার কামিল মিশ্রার সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার উপক্রম হলে আম্পায়ার আহসান রাজা দ্রুত হস্তক্ষেপে করে খেলা স্বাভাবিক করেন। এরপর দ্বিতীয় সেশনে ফিল্ডিং করার সময় লঙ্কান ব্যাটারদের ওপর মজার ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী স্লেজিং শুরু করেন ব্যাটার সরফরাজ খান। স্টাম্প মাইকে তার করা বিভিন্ন মজার মন্তব্য পরিষ্কার শোনা যায়, যেখানে তিনি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও পসিন্দু সুরিয়াবান্দারিয়াদের ব্যাটিং নিয়ে নানা টিপস দেওয়ার ছলে তির্যক মন্তব্য করতে থাকেন। লঙ্কান অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট নেওয়ার পথে কেএল রাহুল দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করে।
দিনের খেলায় সরফরাজ খানের স্লেজিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিলেন লঙ্কান ব্যাটার সোনাল দিনুশা ও কামিন্দু মেন্ডিস। শর্ট-লেগ পজিশনে দাঁড়িয়ে সরফরাজ প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে উদ্দেশ করে বলেন যে দলের বড় স্কোর বোর্ডে থাকায় একটু চাপ তো থাকবেই, তাই ভয় না পেয়ে খোলার মনে খেলার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ফিল্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে উদ্দেশ্য করেও তিনি রসাত্মক মন্তব্য করেন, যা মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের বেশ বিনোদন দেয়। অন্যদিকে প্রথম দিনে ব্যাটিং করার সময় কবজিতে চোট পাওয়া উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থ এদিন মাঠে কিপিং করেননি, তার পরিবর্তে ধ্রুব জুড়েল কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পন্থ কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে দলের পাশে ছিলেন এবং সব মিলিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার এই লাল বলের লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।