
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রতীক্ষা এবং সপ্তাহের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জ্যাকসন হোল সম্মেলনের আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এক ধরনের সতর্ক ও অপেক্ষার পরিবেশ বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে, যেখানে ডলারের দর বেশ সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। বিগত এক সপ্তাহ ধরে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের যে ধীরগতির লেনদেন দেখা যাচ্ছিল, বুধবারও তাতে খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। দিনের পরবর্তী সময়ে মার্কিন মুলুকে জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে, যার দিকে গভীরভাবে নজর রেখেছেন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা হ্রাসের লক্ষণ এবং তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ডলার সূচক কিছুটা হোঁচট খেয়েছে এবং এশিয়ার লেনদেনের শুরুতে এটি ৯৮ দশমিক ৯১৮ পয়েন্টের কাছাকাছি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল। এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়ে ইরান ও ওমানের নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ এবং তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের পর দেশটির মুদ্রার মানে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও নিউজিল্যান্ডের ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনার অচলাবস্থার জেরে কানাডা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করার পর কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতে মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং জাপানি ইয়েনের দরও এ দিন প্রায় স্থিতিশীল ছিল। জাপানি ইয়েন প্রতি ডলারে ১৫৯ দশমিক ১৪ ইয়েনের কাছাকাছি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত সুদের হার বাড়াতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন। এসব বহুমুখী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ডলারের ভবিষ্যৎ পতন বা মূল্য হ্রাসের আশঙ্কায় ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকেছেন, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিটকয়েন ও ইথারের দামে লক্ষণীয় ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে।