
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে স্বস্তির কোনো লেশমাত্র দেখা যায়নি। ছুটির দিনেও মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির চড়া দামের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বাজারভেদে দামের সামান্য তারতম্য থাকলেও অধিকাংশ সবজি এখন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডিমের উচ্চমূল্য এবং মাছ ও মাংসের বাড়তি দাম সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে টান ফেলছে।
রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে শীতের আগাম সবজি হিসেবে বাজারে আসা শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজির চড়া দামে। তবে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় এবং পেঁপে সবচেয়ে কম দামে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে সবজির এই উচ্চমূল্যের বাজারে একমাত্র স্বস্তির খবর হলো কাঁচা মরিচ, যা কিছুদিন আগে ৪০০ টাকায় ঠেকলেও সরবরাহ বাড়ায় এখন ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা সবজির এই চড়া দামের জন্য অতিবৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং মোকাম থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সবজির পাশাপাশি মাংসের বাজারে ব্রায়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা বা হালি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছের বাজারেও দামের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি; তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই-কাতল ৩০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে বড় আকৃতির মাছ ও চিংড়ির দাম হাজার টাকার ওপরে রয়েছে।