
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলের কাছাকাছি এলাকা থেকে বাংলাদেশিসহ মোট উনআশি জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের নিকটবর্তী সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই দলটিতে অন্তত দুইজন নারী এবং দুটি শিশুও রয়েছে। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান এবং বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা এই নৌকায় ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নজরদারি ড্রোন মাঝসমুদ্রে দুটি সন্দেহজনক নৌকার অবস্থান শনাক্ত করার পর মূলত এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। ইইউ ড্রোনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে নৌকা দুটি থেকে এই অভিবাসীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর আগে গ্রিসের স্থানীয় এএনএ নিউজ এজেন্সি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পঁচাশি জন অভিবাসী উদ্ধারের খবর দিলেও পরবর্তীতে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উনআশি জন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ এবং এর পার্শ্ববর্তী গাভদোস দ্বীপ ইউরোপে প্রবেশের নতুন এবং প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে লিবিয়ার উপকূল থেকে গাভদোসের দূরত্ব মাত্র প্রায় তিন শ বিশ কিলোমিটার হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন অনেকেই। তবে গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে সামগ্রিক অভিবাসী প্রবেশের হার আগের তুলনায় বেশ কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় পরবর্তী বারো মাসে অভিবাসীদের আগমন প্রায় একত্রিশ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে আইন ও নীতিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে। এই ধারা বজায় রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার মতো প্রধান ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করছে। গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস অনিয়মিত অভিবাসন কঠোরহস্তে দমনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি অবৈধ অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানার বাইরে নির্দিষ্ট ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে গ্রিস।