
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে বন্দিদের মধ্যে থাকা অনিয়ন্ত্রিত যৌনাকাঙ্ক্ষা এবং বিকৃত মানসিকতা দমনে বিশেষ ওষুধ বা হরমোন থেরাপি চালুর জোরালো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়ায় মূলত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত কামনার তাড়না কমানোর জন্য নির্দিষ্ট বিষণ্নতার ওষুধ এবং শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার হরমোন থেরাপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চিকিৎসায় কিছু অপরাধী মানসিক স্থিরতা ফিরে পেলেও, রাগ, ক্ষোভ বা মাদকের নেশায় অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয় না।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের আইন ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর নানামুখী প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে বন্দিরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই চিকিৎসা গ্রহণ করার সুযোগ পেলেও পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার মতো অঞ্চলে আইন করে বাধ্যতামূলক রাসায়নিক চিকিৎসা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এমনকি অস্ট্রেলিয়াতেও আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তির শর্ত হিসেবে এমন থেরাপি বাধ্যতামূলক করার নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদলে প্যারেলে বা জামিনে মুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে এই ওষুধ সেবনের নিয়ম যুক্তরাজ্যেও চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে এখন নীতিগত ভাবনাচিন্তা চলছে।
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই পদ্ধতির ইতিহাস বেশ পুরনো এবং বেশ কিছুটা জটিল। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে সমকামীদের জেল থেকে রেহাই পাওয়ার শর্ত হিসেবে এই থেরাপি গ্রহণে বাধ্য করা হতো, যার নির্মম শিকার হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং। তাছাড়া, এই হরমোন কমানোর ওষুধগুলোর কারণে শরীরে চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, পেশি হ্রাস এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সব দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ কেবল শারীরিক চাহিদা সাময়িকভাবে কমাতে পারে কিন্তু অপরাধ করার মূল মানসিকতা পুরোপুরি বদলাতে পারে না। ফলে কেবল ওষুধ সেবনের শর্তে জামিন প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নৈতিক বিতর্ক ও প্রশ্ন এখনও বহাল রয়েছে।