
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দল গঠনের পর থেকেই কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এনসিপিকে ঘিরে এক বিশেষ কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা নিয়মিতভাবে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাতায়াত এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করায় এই আগ্রহ এখন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের প্রতিষ্ঠিত ও প্রথাগত বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছুটা পেছনে ফেলে নবগঠিত একটি রাজনৈতিক দলকে বিদেশিদের এমন গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
এনসিপির আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দিন মোহাম্মদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ছাত্রনেতৃত্ব মাঠের মূল শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখায় এবং পরবর্তীতে সংসদীয় নির্বাচনে দলটির ইতিবাচক সাফল্য আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এনসিপিকে একটি স্বাধীন ও অত্যন্ত সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করছে। প্রথাগত রাজনীতির ধারা ভেঙে সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার রূপরেখা তুলে ধরায় পশ্চিমা কূটনীতিকেরা দলটিকে আলাদা নজরে দেখছেন। এছাড়া, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও যুগ্ম-সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরও মনে করেন যে, সংসদের দ্বিতীয় প্রধান বিরোধী দল ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপি আজ জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে জোটগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দলটির তরুণ নেতৃত্ব ও সংস্কারমুখী রাজনৈতিক এজেন্ডাই আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ার মূল কারণ, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে বিদেশি অংশীদাররা প্রত্যাশা করছেন।