
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিএডিসি ডিলারের গুদামঘরের বেড়া ভেঙে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার আলোচিত ঘটনায় বর্তমানে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম চলছে। গত দুই দিনের ধারাবাহিক অভিযানে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মোট ১১৫ বস্তা সার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চল এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী সহকারী কমিশনার ভূমি আমিনুল হক তারেককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি স্থানীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, যার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে আরও একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, লুট হয়ে যাওয়া সারের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ডিলারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডিলাররা এখন প্রকৃত কৃষকদের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই সার বিতরণ করবেন। এছাড়া এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনার দিন রাতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও ডিলারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমানে দুটি তদন্ত দলের সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।