
জরুরি টাকার প্রয়োজনে মুঠোফোনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এখন এক ভয়ংকর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি প্রথম আলোর এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘ফিনক্যাশ’, ‘সাথী লোন’, ‘কুইক লোন’ ও ‘লোনহাট’-এর মতো অন্তত ৩০টি অনুমোদনহীন ও অবৈধ অ্যাপ বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে। ফেসবুকের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে ঋণ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা অ্যাপগুলো ডাউনলোড করার সময়ই অজান্তে নিজেদের মুঠোফোনের ছবি, ভিডিও, কন্ট্যাক্ট নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাপ পরিচালনাকারীদের হাতে তুলে দেন। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঋণগ্রহীতার পরিচিতজনদের ফোন করে মানহানি ও ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা পাকিস্তানে এই চক্রের প্রতারণা আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটালেও বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বা পর্যাপ্ত আইনি পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস (যেমন- বিকাশ বা নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাপ) বাদে এ ধরনের কোনো অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার বৈধতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানালেও, এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ ঋণদান রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, অপরাধের ধরন পাল্টে গেলেও গ্রাহকদের সচেতনতার অভাব এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই অপরাধ বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এই চক্রটি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।