
মাদারীপুরের শিবচরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের পর নিখোঁজ থাকা এক বছর বয়সী শিশু আবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে শিবচর থানা ও নৌ-পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের একটি জমির ঝোপ থেকে শাম্পা খাতুন (২৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শাম্পা নাটোরের লালপুর থানার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে এবং তাঁর স্বামী মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকায়। ওই গৃহবধূকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর এক বছর বয়সী কোলের শিশু সন্তান আবিরও নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২০ আগস্ট শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ এর যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামি ফারুককে আটক করা হয়। আটক ফারুকের বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলায় হলেও তিনি শিবচরের বাখরেরকান্দিতে বসবাস করতেন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিহত শাম্পার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রুপার চেইন এবং বাড়ির চুলা থেকে পোড়া ওড়না ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ফারুক স্বীকার করেন যে, মা শাম্পা খাতুনকে হত্যার পর শিশু আবিরকে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই স্বীকারোক্তির পর থেকেই নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিন পর নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।