
আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের করা আপিল এবং জেল আপিলের রায় ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে এই রায়ের অংশ পাঠ শুরু হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণার পদক্ষেপ নিলেন।
এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশে গঠিত এই বিশেষ বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই থেকে মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার পূর্বে হাইকোর্টের অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করার পর থেকেই নুসরাত ও তার পরিবারকে নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে মামলা তুলে না নেওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নুসরাতকে কৌশলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন সাহসী এই ছাত্রী। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ঐতিহাসিক সেই রায় দিয়েছিলেন, যার ওপর বর্তমান হাইকোর্টের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ