
যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এগুলোর ওপর ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ বা অতিরিক্ত মুনাফার কর আরোপের জোরালো দাবি তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয়টি প্রভাবশালী সদস্য দেশ। জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনের অর্থমন্ত্রীরা সম্মিলিতভাবে সই করা একটি চিঠি আয়ারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউর ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় দেশগুলো আগামী মাসে ডাবলিনে অনুষ্ঠেরব্য ইইউ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির দেখা খসড়া চিঠিতে বলা হয়েছে যে, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির তুলনায় তেল কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক মুনাফা এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের লাভের হার অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে এবং জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইইউভুক্ত দেশগুলোজুড়ে অতিরিক্ত মুনাফার ওপর একটি অভিন্ন কর কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০২২ সালে রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনে হামলার পর জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর যে সাময়িক অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাক কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এর আগেও জোরালোভাবে বলেছেন যে, চলমান সংকটের সময়ে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তার মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, এই সংকটময় সময়ে কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা সাধারণ ভোক্তাদের কল্যাণেই ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন করে কোনো উইন্ডফল ট্যাক্স বা অতিরিক্ত কর আরোপের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এমনকি এ বিষয়ে ইইউর সদস্য দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেও রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। জার্মানির বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের শরিক সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এই প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিলেও চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এর তীব্র বিরোধিতা করছে।