
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই যুবকের দেওয়া তথ্যে এক রোমহর্ষক ও শিহরণ জাগানো চিত্র সামনে এসেছে। ঠান্ডা মাথায় পুরো পরিবারকে খতম করার পর ঘাতকেরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে এবং ওই বাড়িতেই গোসল সেরে ডাইনিং টেবিল থেকে খেজুর ও শসা খেয়ে সময় কাটায়। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
গ্রেফতার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস এবং তাঁর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। পুলিশ কমিশনার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদক সেবনের পর তারা গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে মাদক সেবনের সময় টের পেয়ে গৃহকর্তা গণপতি চক্রবর্তী ছাদে এলে গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে শব্দ শুনে এগিয়ে আসা তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং সবার শেষে ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও অত্যন্ত নির্মমভাবে শ্বাসরোধ ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে তারা।
সবচেয়ে ভীতিকর বিষয় হলো, চার খুন সম্পন্ন করার পর ঘাতক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তড়িঘড়ি করে পালিয়ে না গিয়ে ওই বাড়ির বাথরুমে ঢুকে আরামসে গোসল করে। এরপর ঘরের ডাইনিং টেবিলে গিয়ে সেখানে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। অপরাধের আলামত নষ্ট করতে তারা নিহতদের দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে চুবিয়ে রাখে যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা হাতের ছাপ মুছে যায়। এছাড়া ডাকাতির নাটক সাজাতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার গলানোর চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে তা মন্দিরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে রাখে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে পুলিশ লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে এবং কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।