
বলিউড অভিনেত্রী জানভি কাপুরের করা ব্যক্তিত্বের অধিকার বা পার্সোনালিটি রাইটস সংক্রান্ত মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে আদালত প্রায় ছয় হাজার আটশতাধিক আপত্তিকর লিংকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্ল্যাঙ্কেট টেকডাউন বা সামগ্রিক অপসারণের নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আদালত বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব লিংকে অভিনেত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত অশালীন, যৌনতাপূর্ণ বা পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে, তেমন পাঁচান্নটি আপত্তিকর ইউআরএল দ্রুত ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানি এই মামলার শুনানি পরিচালনা করেন এবং তার পর্যবেক্ষণে জানান যে সামগ্রিক বা ঢালাওভাবে হাজার হাজার লিংক সরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর নির্দেশ এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং মানহানিকর বা চরম আপত্তিকর যে কন্টেন্টগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। মামলার প্রেক্ষাপটে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষা এবং অনলাইন ফ্রিডম বা বাকস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আবারও আইনি আলোচনায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ভারতের বিনোদন জগতের একাধিক তারকা তাদের ছবি, নাম বা কণ্ঠস্বর বিনা অনুমতিতে কমার্শিয়াল বা আপত্তিকর কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এবং আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। জানভি কাপুরের এই আইনি লড়াইও সেই ধারারই অংশ, যেখানে তার অনুমতি ছাড়া তৈরি করা ডিপফেক, অশ্লীল বা মানহানিকর কন্টেন্ট এবং বিভিন্ন অননুমোদিত লিংক অপসারণের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। আদালতের এই আদেশের ফলে সামগ্রিক সেন্সরশিপের দাবি আংশিক নাকচ হলেও, যৌনতাভিত্তিক বা চরম আপত্তিকর কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত হলো।