
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে পরাজিত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচ সেশনের খেলা গড়ালেও একবারের জন্যও স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি টাইগাররা। যদিও এর আগের টেস্ট জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের এই সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে, তবুও ম্যাকাইয়ের এই টেস্টে বাংলাদেশ দল তাদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে তেতো ও লজ্জাজনক কিছু রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। প্রথম ইনিংসে কোনোমতে পঞ্চাশ রান পার করে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শতরানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি দল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলের স্কোর একশো রানের নিচে থেমে গেল। শুধু তাই নয়, সাদা পোশাকের ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশ এই প্রথমবার মাত্র দুই দিনের মধ্যে কোনো টেস্ট ম্যাচ হেরে বসল। ক্রিকেটবিশ্বে এর আগে দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার রেকর্ড থাকলেও বাংলাদেশ এই লজ্জার তালিকায় এবারই প্রথম নাম লেখাল।
ম্যাকাই টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৫৯ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অ্যান্টিগা টেস্টের দুই ইনিংসে মিলিয়ে করা ১৮৭ রান ছিল বাংলাদেশের তৎকালীন সর্বনিম্ন স্কোর। প্রথম দিনে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ২১০ রান সংগ্রহ করে। এরপর ফলোঅনে পড়ে বা পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও টাইগার ব্যাটারদের সেই একই ভরাডুবি দেখা যায়, যার ফলে বড় পরাজয়ের সঙ্গে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড সঙ্গী হয়েছে দলের। ধারাবাহিক এই ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।