
আইনি লড়াই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সাবেক এক গাড়ি বিক্রেতাকে নিজের সন্তান ও উত্তরাধিকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট। এর মাধ্যমে ২৬ বছর বয়সি ক্লেমেন্ট ভ্যানডেনকারখোভ বেলজিয়ামের রাজপরিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন।
বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের সঙ্গে প্রিন্স লরেন্টের অতীতের একটি সম্পর্কের সূত্রে ক্লেমেন্টের জন্ম হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস আগে নগর ভবনে একটি সাধারণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্লেমেন্টকে নিজের পরিবারভুক্ত করেন প্রিন্স লরেন্ট, তবে বিষয়টি সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। এই আইনি স্বীকৃতির ফলে তিনি রাজপুত্রের মর্যাদা লাভ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাজকীয় ভাতা পাবেন না। এছাড়া তিনি সরাসরি বেলজিয়াম রাজপরিবারের ক্ষমতার উত্তরাধিকারীও হচ্ছেন না এবং লরেন্টের অপর তিন সন্তান প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স আইমেরিক ও প্রিন্স নিকোলাসের মতো তার নাম রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে না। পাশাপাশি তিনি কোনো সরকারি রাজকীয় কার্যক্রমেও অংশ নেবেন না।
বাবার রাজকীয় পরিচিতি ও বংশীয় পদবি ‘স্যাক্স-কোবার্গ’ গ্রহণ করা নিয়ে সাবেক এই গাড়ি বিক্রেতা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। বেলজিয়ান পত্রিকা ‘হেট নিউসব্লাড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, নতুন পদবি গ্রহণ করা সহজ হলেও নিজের মায়ের দেওয়া ‘ভ্যানডেনকারখোভ’ পদবি নিয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিত, কারণ এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা মানে তার মায়ের সমস্ত ত্যাগের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করার আগে প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের সম্পর্ক ছিল। গত বছর প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ক্লেমেন্ট প্রকাশ করেছিলেন যে, ২০১৩ সালে একটি শপিংমলে তিনি প্রথম অচেনা হিসেবে লরেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৬ বছর বয়সে মায়ের কাছে নিজের বাবার প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন। এরপর প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পিতৃত্বের বিষয়টি ৯৯.৫ শতাংশ সুনিশ্চিত করা হয়। উল্লেখ্য, প্রিন্স লরেন্টের বাবা ও বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবার্টও ২০২০ সালে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে নিজের এক অবৈধ কন্যাসন্তানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।