
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের নৌপথের নির্ভরতা কাটিয়ে ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক কেবল মানুষের যাতায়াতই সহজ করবে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই রুটটি বাস্তবায়নের ফলে ভোলার বাসিন্দারা সরাসরি বরিশাল ও ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত হতে পারবেন, যা যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সড়ক এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কাজও শুরু হতে যাচ্ছে।
নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে ভোলার মানুষ দশকের পর দশক ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এই নতুন মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সভায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা ভোলাসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করবে।