
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক কৌশলে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে ইরান। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটির সামরিক নীতি এখন মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ধীরে ধীরে ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তেহরানের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসী হামলা চালানো হলে তার জবাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে দেওয়া হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানান যে, এর অর্থ এই নয় যে ইরান শত্রুর বিরুদ্ধে কোনো আগাম বা উসকানিমূলক হামলা চালাবে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতে লড়াইয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাগুলো ইতোমধ্যে পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছে। এমনকি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে নতুন কিছু সামরিক সরঞ্জামও যুক্ত করা হয়েছে। শত্রুরা যদি পুনরায় কোনো ধরনের ভুল হিসাব বা দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, বর্তমান কমান্ড স্ট্রাকচার বা নেতৃত্ব কাঠামোয় সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা। যুদ্ধবিরতির সময় বা সাময়িক নীরবতার মধ্যেও ইরান এক মুহূর্তের জন্যও সময় অপচয় করেনি, কারণ তারা প্রতিপক্ষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয় যে, এই জলপথ ইরানের আঞ্চলিক কৌশল ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মূলত ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব হ্রাসেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।