
ভূমধ্যসাগরের তিউনিশিয়া উপকূলে সংঘটিত এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ জন তিউনিস নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। তিউনিশিয়ান অবসরাভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা আবদেলকেবির আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই দুর্ঘটনা ও নিখোঁজের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। ইউরোপে পাড়ি জমানোর বিপজ্জনক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরের এই রুটটি পুনরায় অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার মোট ১৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তিউনিশিয়ার উপকূল ছেড়ে রওনা হয়েছিল একটি ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকা। কিন্তু উপকূল থেকে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পরই মাঝসমুদ্রে নৌকাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ডুবে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হলেও শেষ পর্যন্ত দু'জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া জীবিত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংস্থার প্রধান জানান যে, নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর সেটি বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঢেউ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ডুবে যায়। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি ও গ্রিসে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তিউনিসিয়ার উপকূল। যদিও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে তিউনিস সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ কঠোর পদক্ষেপে কিছুদিন পাচার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে অভিবাসীদের অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি থামানো যায়নি।