
দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই নির্বাচনটি পুরোপুরি সংবিধান ও নির্ধারিত আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে তফশিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ এবং শপথ—পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
চিফ হুইপ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই সবার উপস্থিতিতে ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণের সময়কার সম্প্রচার ব্যবস্থা নিয়ে চিফ হুইপ জানান, ভোট শুরুর পাঁচ মিনিট আগে থেকে সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। তবে ভোট চলাকালীন তিন ঘণ্টা লাইভ সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার সময় পুনরায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, এবার প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের ভূমিকা পালন করছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যপদ ও মন্ত্রিত্ব থাকা নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পূর্বের সংসদ সদস্যপদ ও মন্ত্রিত্ব আইনত বাতিল হয়ে যাবে। এজন্য শপথের আগে তাকে আলাদাভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারা ভোট দিতে পারছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে মির্জা আব্বাস ভোট দিতে না পারলেও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য হিসেবে এই নির্বাচনে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।