
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হলে তারা এমন সব অস্ত্র ব্যবহার করবে যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ও কার্যকর। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেবি স্পষ্টভাবে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।
মোহেবি আরও যোগ করেন যে, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে যে ধরনের ওয়ারহেড ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পন্ন। যেকোনো নতুন যুদ্ধে ইরান যে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে, তা আগের পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অভূতপূর্ব হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের নতুন সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে এর ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে দেখার পরামর্শই যেন দিচ্ছে তেহরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করেছিলেন যে, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো গোপন আলোচনা চলছে। তবে সেই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মোহেবি। আইআরজিসির স্পষ্ট বক্তব্য হলো, তাদের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের এই মুহূর্তে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ নেই। ট্রাম্পের এমন দাবিকে কল্পনাপ্রসূত হিসেবে অভিহিত করে মোহেবি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের কাল্পনিক চিন্তা বা দাবি কোনো কাজে আসবে না।
মোহেবীর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সামনে বাস্তবসম্মত পথ হলো পরাজয় মেনে নেওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত শর্তগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরান তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থানের হুমকি আরও জোরালো করেছে।
গত জুলাই মাসেও আইআরজিসির পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তখন তারা জানিয়েছিল যে, যুদ্ধবিরতির এই সময়টাকে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা বাড়াতে কাজে লাগিয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।