
বিজেপি নেতাদের হুমকি এবং রাজ্য প্রশাসনের তীব্র চাপের মুখে পড়ে কলকাতায় তাদের পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সভা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। উত্তর কলকাতার ঐতিহাসিক ভারত সভা হলে দলটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে হল কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কর্মসূচিটি পণ্ড হয়ে যায়। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কেবল ভারত সভা হলই নয়, বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে উত্তর কলকাতার আরও বেশ কয়েকটি হল কর্তৃপক্ষও তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনের আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন যে, ভারত সভা হলের মালিকপক্ষ বিজেপির তরফ থেকে সরাসরি হুমকি পাওয়ার পরেই সভা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া উত্তর কলকাতার আরও ছয়টি হলের ক্ষেত্রেও রাজ্য প্রশাসনের প্রবল চাপের কথা উল্লেখ করে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। কলকাতার কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এই পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হলেও দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম থেমে থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। বরং তাদের কর্মসূচি যত বেশি বাধাগ্রস্ত করা হবে, সংগঠন ততই শক্তিশালী রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতারা এবং খুব শীঘ্রই আরও বড় পরিসরে কলকাতায় ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
কলকাতার সভা বাতিলের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে আব্দুল নামের এক কর্মীর পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি। পরিবারটিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তারা এর পরিবর্তে আব্দুলের বাবার নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বলে দল জানিয়েছে। এছাড়া প্রচলিত ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে একটি শক্তিশালী চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তবে এই সভা বাতিল এবং আনুষঙ্গিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিজেপি বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।