
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট এবং একজন সিনিয়র আইনজীবীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুদ্ধাপরাধ তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন এই আদালতটিকে এক প্রকার অকার্যকর ও ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির বেশ কয়েকজন বিচারক ও প্রধান প্রসিকিউটরসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ।
মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন যে, আইসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এমন সব সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছে যাদের সরকার আদালতের এখতিয়ার মেনে চলে না। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেউই আইসিসির সদস্য না হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ২০১৫ সালে এর সদস্যপদ লাভ করে। এর আগে গত মাসে রুবিও আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশকে এই আদালত থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের লক্ষ্য করে নেওয়া এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মূলত বিশ্বজুড়ে আইনের শাসনকেই দুর্বল করে দেয়। এছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউটের মতো শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে। নিউইয়র্কের আদালতে দায়ের করা এসব মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, আইসিসিকে ভেঙে দেওয়ার মার্কিন প্রশাসনের এই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং এটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।