
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতিতে আর সম্মত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। টানা ছয় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানই এখন তেহরানের একমাত্র লক্ষ্য। সম্প্রতি ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা এমন কোনো যুদ্ধবিরতি আর মেনে নেবেন না যা কেবল সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়ে রাখবে। তেহরানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতির চেয়ে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাপ্তি চায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সমঝোতার অধীনে ৬০ দিনের যে আলোচনার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, তা কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে না পেরেই শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান এখন আর কোনো দুর্বল সমঝোতায় বিশ্বাসী নয়। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ এবং কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই ইরান সফল হয়েছে। শুরুতে যারা ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চাপ দিয়েছিল, তারাই এখন আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বশক্তিগুলো জোটবদ্ধ হয়েও কয়েক দিনেও সফল হতে পারেনি, যা প্রমাণ করে যে ইরান এখন সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সাদা পতাকা উড়িয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান বলছে, তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের নিশ্চয়তা চায় এবং নিজস্ব শর্তেই আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন জুনের সমঝোতার চেয়েও বেশি ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরান তাদের সামরিক কৌশল আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রয়োজনে সময়োপযোগী ও সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার প্রস্তুতিও রাখছে তেহরান। আরাগচি এই অচলাবস্থার জন্য ইসরায়েলকেও দায়ী করেছেন। তার মতে, ইসরায়েল শুরু থেকেই শান্তি প্রক্রিয়া ও সমঝোতা নষ্ট করার জন্য পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় ধরনের কোনো নতুন চুক্তি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।