
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, চলমান ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ ও ভূরাজনৈতিক ভাবনায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ আরব দেশগুলোকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে যে, নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিদেশি সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়। বরং দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য এখন প্রয়োজন আঞ্চলিক ও সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
আরাগচির মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, যেসব দেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে ঘাঁটিগুলো স্বাগতিক দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে সেগুলো ইসরায়েলকে সুরক্ষায় বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। যারা বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তারা এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ভেঙে ইরান এখন একটি শক্তিশালী ও প্রতিরোধী দেশ হিসেবে নিজেদের নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। বিশেষ করে, আলোচনার টেবিলে যে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে পেজেশকিয়ানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আরাগচি বলেন, এখন থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি আরও বেশি দৃঢ়, মর্যাদাপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থসচেতন হবে। টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তেহরানের নতুন রণকৌশলের ইঙ্গিত বহন করছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।