
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিতের কঠোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির পক্ষ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে বড় ধরনের অবনতি ঘটল। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে, চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
বাণিজ্য স্থগিতের এই যুগান্তকারী ঘোষণার ঠিক আগেই আমিরাতের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জরুরি সতর্কতা সংকেত পাঠানো হয়। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়, তবুও এর পরপরই পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার গুরুতর অভিযোগ তোলে আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনাক্ত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি আঞ্চলিক সীমার বাইরে এবং অপরটি জলসীমার ভেতরে আঘাত হেনেছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে একে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আমিরাত বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এডনকের তেল ট্যাংকারে হামলার পর নিরাপত্তা সংকট চরম আকার ধারণ করে। এর মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ রাখা হবে। আমিরাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হিসেবে এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা এবং বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের কারণেই আবুধাবি এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।