
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের যুগে বিভিন্ন ট্রেন্ড খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে অনেক সময় এমন কিছু বিষয় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ‘বাটারফ্লাই মাউথপিস’ নামের একটি বিতর্কিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বা ওরাল প্র্যাকটিস পদ্ধতি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এই ট্রেন্ডটি অন্ধভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করলেও বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে জোরালো সতর্কতা জারি করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই তথাকথিত বাটারফ্লাই মাউথপিস ব্যবহারের পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি বা কার্যকারিতা তো নেইই, বরং এটি ব্যবহারের ফলে মানুষের শারীরিক সুরক্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। গলার ভেতরের কোমল টিস্যু এবং শ্বাসতন্ত্রের ওপর এই ডিভাইসটি সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় সঠিক উপায়ে ব্যবহার না করার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যা মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। এছাড়া মুখ ও গলার ভেতরের সংবেদনশীল অংশে ইনফেকশন বা বড় ধরনের ইনফ্লামেশন হওয়ার আশঙ্কাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এই অননুমোদিত পদ্ধতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যেকোনো ট্রেন্ড বা লাইফস্টাইল হ্যাক যাচাই-বাছাই না করে অন্ধভাবে অনুসরণ করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু যেকোনো স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত বোকামি। সচেতন মহল এবং চিকিৎসকরা বারবার অনুরোধ করছেন যেন এই ধরনের ক্ষতিকর ও অপ্রমাণিত ট্রেন্ড থেকে তরুণ সমাজ দূরে থাকে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা বর্জন করার কোনো বিকল্প নেই।