
মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল সব যুদ্ধজাহাজে জীবন কাটানো সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ দেখা গেছে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ক্ষেত্রে। মাসের পর মাস সমুদ্রে আটকে থাকা এই বিশাল যুদ্ধজাহাজে কর্মরত সেনাসদস্যদের দৈনন্দিন জীবন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ ভেটেরান এবং সাবেক সামরিক ফটোগ্রাফার জোনাথন বার্নেল ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ইউএসএস কার্ল ভিনসন জাহাজে ১১১ দিন কাটিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দীর্ঘ দিন পরিবারের বাইরে সাগরে কাটানোর ফলে ক্রুদের মনে এক ধরনের মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা তৈরি হয়। শুরুর দিকের উদ্দীপনা ধীরে ধীরে ক্লান্তি ও একঘেয়েমিতে রূপ নেয়। ইউএসএস লিংকনে কর্মরত সেনাসদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মিশনে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং নানা কাঠামোগত সংকটের অভিযোগ উঠেছে। যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এই ধরনের প্রতিবেদনের বড় অংশকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং জাহাজে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
যুদ্ধজাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। সারাক্ষণ যুদ্ধবিমানের ওঠানামা, ভারী অস্ত্রের গর্জন এবং ইঞ্জিনের অবিরাম কম্পনের কারণে জাহাজের ভেতরে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি থাকে না। এর ওপর নিচের তলার কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘কফিন র্যাক’ খ্যাত অত্যন্ত ছোট বিছানায় আরাম করে ঘুমানোরও জো থাকে না। দায়িত্বের ব্যস্ততায় অনেক নাবিক সপ্তাহের পর সপ্তাহ খোলা আকাশ বা সূর্যের আলোর মুখ পর্যন্ত দেখতে পান না। এই ধরনের চরম একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা এবং দায়িত্বের চাপ মানুষের মানসিক শক্তির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজার হাজার মানুষের এই ভাসমান সমাজটিকে সুস্থ রাখতে শারীরিক সাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।