
প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিশুদের মাঝে সমালোচনামূলক চিন্তা বা ক্রিটিক্যাল থিংকিং এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (প্রবলেম সলভিং) গড়ে তুলতে ‘খেলায় খেলায় শেখার’ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এর জন্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও সে অনুযায়ী রূপান্তর করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী সংস্থাগুলোর গবেষণায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত প্রায় ৭০০টি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর মধ্য থেকে ৪১২টি খেলা বিদ্যালয়ে চালুর উপযোগী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের আনন্দময় শিখন নিশ্চিত করতে হলে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু মুখস্থ করিয়ে শিশুদের মেধা বিকাশ সম্ভব নয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখালে তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
চীন ও জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ওইসব দেশে পাঠ্যক্রমে কোন অধ্যায়ের জন্য কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহৃত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা থাকে। প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সেখানে সমন্বিতভাবে কাজ করেন। বাংলাদেশেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে সহজ করতে শিক্ষামূলক খেলনা ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
ছোট শিশুদের জন্য বড় মাঠের খেলার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপযোগী ছোট পরিসরের খেলার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায়ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য একটি আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।