
২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সদ্য প্রবর্তিত ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ ক্যাটাগরিটিতে পরিবর্তন আনা বা বিষয়টি পুনর্মূলভ্যায়ন করার কথা ভাবছে রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি।
গত শুক্রবার রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভে মেসন জুনিয়র এক বিবৃতিতে জানান, বিভিন্ন শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই নতুন ক্যাটাগরিটি অনেক শিল্পীর কাজের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করছে না বলে তারা মনে করছেন। গ্র্যামি অর্গানাইজেশন সব সময় সংগীতশিল্পীদের সেবা করতে এবং কোনো কণ্ঠ বা সম্প্রদায় যাতে অবহেলিত বা ভুল বোঝাবুঝির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিলবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে হার্ভে মেসন জুনিয়রসহ গ্র্যামির অন্যান্য কর্মকর্তারা কে-পপ, জে-পপ, সি-পপ এবং ভারতীয় সংগীতসহ এশিয়ার বিভিন্ন সংগীত কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্র্যামি জমা দেওয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় এবং আগামী ১২ অক্টোবর প্রথম ধাপের ভোটিং শুরু হওয়ার আগে এই ক্যাটাগরিটি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ ক্যাটাগরি ঘোষণা করার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচকরা এই ক্যাটাগরির ভাষা-সংক্রান্ত যোগ্যতার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এশিয়ান শিল্পীদের একটি আলাদা ক্যাটাগরিতে সীমাবদ্ধ রাখলে গ্র্যামির প্রধান বা জেনারেল ক্যাটাগরিগুলোতে তাদের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে বিটিএসের সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌথ বিবৃতি দিয়ে এবারের গ্র্যামি প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেন। ওই বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষায় বিভক্ত না করে কেবল এর শিল্পমূল্যের জন্যই শোনা ও ভালোবাসা উচিত। ব্যান্ডটির এই সিদ্ধান্তের পর হার্ভে মেসন জুনিয়র জানান যে বিটিএসের অংশগ্রহণ না করার খবরে তিনি দুঃখ পেয়েছেন, তবে তাদের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেন যে, কোনো জেনার ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পাওয়ার সঙ্গে জেনারেল ফিল্ডে স্বীকৃতি পাওয়ার কোনো বিরোধ নেই।