
ফিটনেসে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাজ, পরিবার ও অন্যান্য দায়িত্বে ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস ধরে রাখা অনেকের জন্যই বেশ কঠিন। কোনো তুলনামূলক ফাঁকা দিনে হয়তো ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা সম্ভব হয়, কিন্তু এরপর কাজের চাপ বা পারিবারিক ব্যস্ততায় টানা কয়েক দিন শরীরচর্চা করা হয়ে ওঠে না। ফলে তৈরি হয় এক ধরনের অনিয়মের চক্র।
ফিটনেস কোচরা মনে করেন, এই ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যায়ামে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রয়োজন মূলত মানসিকতার পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় বের করা সত্যিই কঠিন। কোচরা হয়তো সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সময় আসবে কোথা থেকে? কারণ বেশির ভাগ মানুষই নানা কাজে এমনিতেই ভীষণ ব্যস্ত।
ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই মানুষের সামনে নানা দায়িত্ব অপেক্ষা করে থাকে। ঘরের কাজ, সন্তানদের দেখাশোনা, সামাজিক যোগাযোগ, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ সময় স্ক্রল করা—সবকিছুর সঙ্গে যোগ হয় চাকরি ও যাতায়াতের সময়। দিনের এসব কাজ শেষ করতে করতে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে দিনের শেষে ব্যায়ামের মতো শক্তি বা আগ্রহ কোনোটিই অবশিষ্ট থাকে না।
তবে নিয়মিত ব্যায়াম করতে চাইলে একে ‘সময় পেলে করব’—এমন একটি কাজ হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। বরং এটিকে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ব্যায়ামকে অন্য সব কাজ শেষ করার পরের বিষয় হিসেবে না দেখে, প্রতিদিন অবশ্যই করতে হবে—এমন একটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মূলত দুটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, বর্তমান রুটিনের কোনো কাজ বাদ না দিয়ে ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় বের করা, যদিও এতে জীবনের ব্যস্ততা আরও বাড়তে পারে। দ্বিতীয় এবং তুলনামূলক বাস্তবসম্মত উপায় হলো নিজের দৈনন্দিন কাজগুলোর অগ্রাধিকার নতুন করে নির্ধারণ করা এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের সময় কমিয়ে সেখানে ব্যায়াম যুক্ত করা। কারও ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কমানো, আবার কারও ক্ষেত্রে অন্য কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় কাটছাঁট করাই হতে পারে এর সমাধান।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামকে অগ্রাধিকারের তালিকায় ওপরে তুলতে পারলে খুব সহজেই সময় বের করা সম্ভব হবে। তখন বোঝা যাবে, ব্যায়ামের জন্য জায়গা তৈরি করতে জীবনের অন্য কোনো কাজকে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায়। এভাবেই ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস খুব সহজে ধরে রাখা সম্ভব।