
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে অন্তত দুই সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত সামা টিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের কিল্লি জাইক ও কাঘলির মধ্যবর্তী এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। উল্লেখ্য, এই এলাকাটি বাসিমা ক্যাম্প থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেললে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যার জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে নিরাপত্তা বাহিনী। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ চলা এই গোলাগুলির একপর্যায়ে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং আরও তিনজন আহত হন।
নিহত সন্ত্রাসীদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি হলেন মুশতাক আহমেদ ওরফে কোহিয়ার, তবে অপর নিহত সন্ত্রাসীর তাৎক্ষণিক কোনো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সফল এই অভিযان শেষে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলি, ম্যাগাজিন, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার করা এসব বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র থেকে এটি স্পষ্ট যে, ওই এলাকায় বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করছিল সন্ত্রাসীরা।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল এবং সেখানে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।