
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’সহ বহুমুখী অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের এক বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একাই প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের দায়িত্ব পালন করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের সেই জনসম্পৃক্ততার চেতনাকে ধারণ করে ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খরাপ্রবণ এলাকায় পানি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। খালের পানিতে মাছ চাষ ও পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা ফিরে আসছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল পরবর্তী উদ্ধার কাজ নয়, বরং দুর্যোগের আগেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরের মতো ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর জন্য ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডেটাবেইস ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম দিয়ে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে বিশেষ সেল গঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত মোকাবিলায় উত্তরাঞ্চল ও হাওর এলাকার কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা, কৃষক ছাউনি ও মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বজ্রপাতে নিহতদের আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের মে মাসে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের সহায়তা কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় হাওর খনন ও স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামে স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার পর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে গৃহনির্মাণ কর্মসূচি ও খাদ্যসামগ্রী উপহার বিতরণ করেছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে গাজীপুরে ৮.২০ একর জমির ওপর ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে। সরকারের ১৮০ দিনের এই পথচলা প্রমাণ করে যে, কেবল ত্রাণনির্ভরতা নয়, বরং দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র। জনগণের সাহস ও সক্ষমতার সঙ্গে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি যুক্ত করে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণই সরকারের মূল অঙ্গীকার।