
দেশভাগের আগের বছর জন্মগ্রহণ করা বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা শবনম আজ জীবনের ৮০ বছর পূর্ণ করলেন। গত শতকের ষাটের দশকের শুরুর দিক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ অব্দি বড় পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রীকে দর্শকরা আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ করে বাংলা সিনেমার অদম্য জনপ্রিয় চরিত্র ‘আম্মাজান’ হিসেবে তিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। তাঁর জন্মদিনে চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্তরা তাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন।
১৯৪৬ সালের আজকের এই দিনে ঢাকার নবাবপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শবনম, যার আসল নাম ছিল ঝর্ণা বসাক। ছোটবেলায় বেশ ‘টমবয়’ স্বভাবের ছিলেন এবং ভাই-বোনদের সাথে খেলায় মেতে থাকতেন, তখন অভিনয়ে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তাঁর বড় বোন সন্ধ্যা বসাক নাচ শেখার সুবাদে ঝর্ণার মধ্যেও নাচের আগ্রহ তৈরি হয় এবং বাবা তাকে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভর্তি করে দেন। ওদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম ছিলেন ঝর্ণার বাবার বন্ধু। তিনি যখন ক্লাস সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, তখন ‘এ দেশ তোমার আমার’ সিনেমার একটি কোরাস গানের দৃশ্যের জন্য চারজন মেয়ের একজন হিসেবে তাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করানো হয়।
এরপর ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় একটি গানে অভিনয় করে দারুণ নজর কাড়েন তিনি। তবে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমেই প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ঝর্ণা থেকে ‘শবনম’ নাম ধারণ করেন। ততদিনে তিনি কলেজে পা রেখেছেন এবং ‘চান্দা’ ও ‘তালাশ’-এর মতো সিনেমাগুলো তাকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ঢাকার পাশাপাশি শবনম হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের উর্দু সিনেমারও একচ্ছত্র অধিপতি। বাংলার চেয়ে উর্দু সিনেমাতেই তিনি বেশি কাজ করেছেন এবং সেখানে অসামান্য খ্যাতি ও রেকর্ডসংখ্যক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে শবনমের অভিনীত মোট সিনেমার সংখ্যা প্রায় ১৮০টির মতো। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাকিস্তানের মর্যাদাপূর্ণ ‘নিগার পুরস্কার’ অর্জন করেছেন রেকর্ড ১২ বার। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াতের বিখ্যাত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এই সিনেমার পর আর তাকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারে শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘ ও সফল পথচলাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।