
অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এক অবিস্মরণীয় ও ইতিহাস গড়া জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী স্বাগতিকদের বিপক্ষে টাইগারদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার ওয়াসিম আকরাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বাংলাদেশের এই সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি দলটির ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তাদের নিবেদনের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন এই পাকিস্তানি কিংবদন্তি।
ওয়াসিম আকরাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় প্রমাণ করে দেয় যে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল কতটা উন্নতি সাধন করেছে এবং তাদের সঠিক অগ্রাধিকার কোথায় রয়েছে। বিশেষ করে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের অসাধারণ অবদানের কথা আলাদাভাবে স্মরণ করেছেন তিনি। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তানজিদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং পেসার হাসান মাহমুদের নিখুঁত ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের বড় চাপের মুখে ফেলেছিল। কোনো অতিরিক্ত বৈচিত্র্যের চেষ্টা না করে কেবল নিখুঁত টেস্ট লেংথে বল করার দক্ষতার জন্য হাসানের বিশেষ প্রশংসা করেছেন আকরাম।
ম্যাচটিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। পেস আক্রমণের সামনে টিকতে না পেরে স্বাগতিকরা মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। দলের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন দুটি করে উইকেট নিয়ে পেস বিভাগকে শক্তিশালী রাখেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে এবং ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয়। দলের পক্ষে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রানের এক লড়াকু ও স্মরণীয় ইনিংস খেলেন।
খেলার দ্বিতীয় ইনিংসেও বজায় ছিল টাইগারদের আক্রমণাত্মক ধারা। অস্ট্রেলিয়া ৯৫.১ ওভারে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়, যেখানে ক্যামেরন গ্রিন একা লড়ে ১০৪ রান করেন। এবার স্পিন আক্রমণে ভেল্কি দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ; তিনি ৩৩.১ ওভারে ৬৬ রান খরচ করে নেন ৫টি উইকেট। পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে আলো ছড়ানো হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে মোট নয় উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন। জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য পেয়ে বাংলাদেশ মাত্র ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। মমিনুল হক ৩০ এবং শাদমান ইসলাম ২৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এবং ৯ উইকেটের এক রূপকথার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।