
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা সামরিক সংঘাতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেয়ে এর দায় এখন মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক রবার্ট কেলি। তাঁর মতে, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাতের সূচনা করেছিলেন, তখন তিনি হয়তো ভেবেছিলেন খুব দ্রুতই এর ইতি টান সম্ভব হবে। কিন্তু দীর্ঘায়িত হয়ে এই যুদ্ধ এখন একটি জটিল ‘ফরেভার ওয়ার’-এর রূপ নিয়েছে।
অধ্যাপক কেলি তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত ফাঁদে আটকা পড়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে তিনি এখন বলির পাঁঠা বা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পথ খুঁজছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্ররাই তার কাছে সবচেয়ে সুবিধাজনক লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশ ট্রাম্প দিয়েছেন, তার পেছনেও এই ভূরাজনৈতিক হতাশা কাজ করছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা কমানোর পেছনে ট্রাম্প বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে রয়েছে মহড়ার উচ্চ খরচ, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং ইরান ইস্যুতে সিউলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার অস্বীকৃতি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের মার্কিন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যা সিউল প্রত্যাখ্যান করে। যদিও ট্রাম্প নিজেই পরবর্তীতে সামরিক মহড়া হ্রাসের সাথে এই বিষয়টির কিছুটা সম্পর্কহীনতার কথা স্বীকার করেছেন, তবুও অধ্যাপক কেলির মতে এগুলো সবই উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের তৈরি করা সংকটকে আড়াল করার এক চতুর কৌশল মাত্র।
সব মিলিয়ে, বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন বা সংকট উত্তরণের সুনির্দিষ্ট পথ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন নিজেই এক ধরণের দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই গবেষক। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন যেভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তাতে মার্কিন মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার ট্রাম্পের এই কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।