
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, কর্মদক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় করতে কঠোর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নত করা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে ভালো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় প্রতি মাসে দেশের সেরা ৫ শতাংশ হাসপাতালকে বিশেষভাবে প্রণোদনা দেওয়া হবে, যা ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি, কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা বা দুর্বল ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। হাসপাতালগুলোর উপস্থিতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সেবার মান এবং সামগ্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে এবং সেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এই ধরনের নিয়মিত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এজন্য প্রতিটি হাসপাতালে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা এবং আধুনিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু উপস্থিতি নিশ্চিত করাই নয়, এই তথ্যের সাথে চিকিৎসকদের বেতন, ছুটি এবং পদোন্নতির বিষয়গুলো সরাসরি যুক্ত করা হবে। ফলে কর্মক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দায়িত্বে বিন্দুমাত্র অবহেলা বরদাশত না করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। কাজের সময় গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং সরকারি হাসপাতালে দুর্ভোগ কমাতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গৃহীত এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আগামী ২৫ আগস্ট একটি বিশেষ পর্যালোচনার কথা রয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে